হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। টানা কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, শিশু ও বয়স্করা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। তাপমাত্রা আরও নিম্নগামী হওয়ায় জেলা জুড়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।
হিমালয় ঘেঁষা অঞ্চল হওয়ায় প্রতিবছর শীত মৌসুমে এ জেলায় তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। ভোরে ও রাতের বেলায় শিশির পড়ছে বৃষ্টির মতো। কোথাও কোথাও টিনের চালের ওপর শিশিরের শব্দ শোনা যায়। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও অনেক সময় সূর্যের দেখা মিলছে না।
ঘন কুয়াশার কারণে রাতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক যানবাহন অতিরিক্ত ও রঙিন লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। এ সময়ে বেড়েছে শীতজনিত নানান রোগের প্রাদুর্ভাবও। বিশেষ করে শিশুদের সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া এবং বয়স্ক ও অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালে প্রতিদিন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত ৩৫-৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মোসলেমা অক্তার বলেন, ‘আমার দুই বছরের ছেলে কয়েকদিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগছে। নিউমোনিয়া যেন না হয় সেজন্য খুব সতর্ক থাকতে হচ্ছে।’
সিঙ্গামারি ইউনিয়নের হাজার মোড় এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম নান্নু বলেন, ‘দুই দিন ধরে সূর্য উঠছে না। ক্ষেতে কাজ করতে পারছি না। বেশি শীত হলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
রিকশাচালক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঠান্ডার কারণে মানুষ খুব কম বের হচ্ছে। যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় আয় কমে গেছে। সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় এবং উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল বাতাসের প্রভাবে লালমনিরহাটে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসে আরও এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সকাল নিউজ/এসএফ

