তথ্যপ্রযুক্তি অগ্রগতিতে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী পাঁচ বছরে সমগ্র মানবজাতিকে সম্মিলিতভাবে ছাড়িয়ে যাবে এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
এমন তথ্যই জানিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। যিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী আমেরিকার একজন বিখ্যাত উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী, যিনি মহাকাশ (SpaceX), বৈদ্যুতিক গাড়ি (Tesla), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (xAI) এবং সামাজিক মাধ্যম X/Twitter সহ একাধিক প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব এনেছেন। যিনি Zip2 ও PayPal-এর মতো সফল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
ফেসবুক, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো জায়েন্ট তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় বর্তমানে বহু মানুষের কাজ কার্যত এআইকে ব্যবহার করেই সেরে ফেলছে সংস্থাগুলো। ফলে কাজের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। কাজের ক্ষেত্রে অনেকেই এআইকে বিজ্ঞানের ‘অভিশাপ’ বলছেন। এবার মাস্কের সেই বক্তব্যে আরও জোরালো হলো সভ্যতার আগামী দিনে এআইয়ের বাড়বাড়ন্তের দিক।
বিশ্বের বড় বড় সংস্থাগুলো এআইতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। ফলে ক্রমশ কমছে কর্মসংস্থান। বাড়ছে কর্মী ছাঁটাই। প্রশ্ন উঠছে- তাহলে কি এআই টপকে যাবে মানুষকে? ইলন মাস্ক জানিয়ে দিচ্ছেন, বিষয়টি আর দূরে নেই। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষেই বিপ্লব ঘটে যেতে পারে এবং আগামী পাঁচ বছরে সমগ্র মানবজাতিকে সম্মিলিতভাবে ছাড়িয়ে যাবে এআই।
সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় উপস্থিত হয়ে সবাইকে সতর্ক করে এ ধনকুবের বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্সের মতো প্রযুক্তি এমন গতিতে এগিয়ে চলেছে, যা সভ্যতা, অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দিতে পারে দ্রুতই।’
ইলন মাস্ক বলেন, ‘আগামী ১০ বছরে কী ঘটবে তা আমি জানি না। কিন্তু এআইয়ের অগ্রগতির হার দেখে আমার মনে হচ্ছে— চলতি বছরের শেষ নাগাদই বা বড় জোর আগামী বছরের মধ্যে আমরা এমন এআই পেয়ে যাব, যা যে কোনো মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। ২০৩০ বা ২০৩১ সালের মধ্যে এআই সমষ্টিগতভাবে সমগ্র মানবজাতির চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে।’
এর মধ্যেই এ বিষয়ে কথা বলেছেন গুগল ডিপমাইন্ডের যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা ও মুখ্য এজিআই বিজ্ঞানী শেন লেগ। এ কর্মকর্তা বলেন, ‘ইতোমধ্যে এআই সিস্টেম বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষকে টপকাতে শুরু করেছে। যার মধ্যে রয়েছে- ভাষার ব্যবহার ও সাধারণ জ্ঞান। এবং আগামী কয়েক বছরে যুক্তি প্রয়োগ, চাক্ষুষ উপলব্ধি কিংবা ধারাবাহিক শিক্ষাসহ তাদের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠবে এআই।’
সকাল নিউজ/এসএফ

