বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে ঢাকা যেতে বিশেষ ট্রেনের দাবিতে সাড়ে ৬ ঘণ্টা লালমনিরহাট রেলপথ অবরোধ করেছে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এতে করে দীর্ঘ সময় ধরে ছাড়া যায়নি ঢাকাগামী নির্ধারীত আন্তঃনগর ট্রেন।
ফলে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যাত্রীদের। অবশেষে ৫ ঘণ্টা পর ছেড়েছে রাজধানীগামি লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনে রেলপথ অবরোধ করে জেলা বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনে রেলপথ অবরোধ করে রাখে জেলা বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের শীর্ষ নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে নেতাকে দেখতে রাজধানী ঢাকা যাবে জেলা বিএনপি, সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
এজন্য ২৪ ডিসেম্বর রাতে লালমনিরহাট থেকে রাজধানী ঢাকাগামী ভাড়ায় চালিত একটি ট্রেন বরাদ্ধ চেয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর রেল কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন জানায় লালমনিরহাট জেলা বিএনপি। সেই আবেদন নাকচ করে সোমবার রাতে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় রেল কর্তৃপক্ষ। এমন সিদ্ধান্তে ফুসে উঠে বিএনপি ও তার সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
রেলওয়ের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে শুয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রা বিরতী ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন লালমনিরহাট থেকে ঢাকাগামি যাত্রী সাধারণ। সকাল ১০ টায় ৪৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আন্তঃনগর এ ট্রেনটি ৫ ঘণ্টা পর রাজধানীর উদ্দেশ্যে মনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন ত্যাগ করে।
অবশেষে রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার অবরোধকারীদের সাথে আলোচনায় বসেন। তাদের দাবির সাথে একাত্ব ঘোষনা করে পুনরায় বিশেষ ট্রেনের আবেদনটি রেলভবনে পাঠান এবং ২৪ ডিসেম্বর বিশেষ ট্রেন দেয়ার আশ্বাস দিলে বিকেল ৩টায় অবরোধ তুলে নেয় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।
অবরোধ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট জেলা যুবদলের আহবায়ক আনিসুর রহমান আনিচ বলেন, ‘দীর্ঘ দিন পর প্রিয় নেতাকে দেখতে আমরা হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকা যেতে প্রস্তুতি নিয়েছি। নেতা-কর্মীদের পরিবহনের জন্য আমরা বিশেষ ট্রেন চেয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় রেলভবনে আবেদন করেছি। তারা শেষ সময়ে এসে ট্রেন বরাদ্দ নেই বলে জানায়।
যার ফলে এ অল্প সময়ের মধ্যে আমরা বিকল্প কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। রেল কর্তৃপক্ষ এখনও সিদ্ধান্ত নিলে আমরা প্রিয় নেতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারব। তাই রেলপথ অবরোধ করেছিলাম। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবরোধ একদিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিশেষ ট্রেন না দিলে বুধবার সকালে আবারও অবরোধ করা হবে। আশা করি রেল বিভাগের শুভবুদ্ধি উদয় হবে।’
লালমনিরহাট রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার বলেন, ‘রেলপথ অবরোধ করায় লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন সাড়ে ৫ ঘণ্টা পরে ঢাকার উদ্দেশ্যে লালমনিরহাট ছেড়ে গেছে।’
লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন মাষ্টার বাবু আল রশিদ বলেন, ‘অবরোধের কারণে লালমনি এক্সপ্রেস, করতোয়া এক্সপ্রেস, পদ্মরাগ, পার্বতিপুরগামী ৬৩ নং কমিউটার ট্রেন আটকা পড়ে। পরে অবরোধ তুলে নিলে সকল ট্রেন ধীরে ধীরে বিলম্বে যাত্রা শুরু করে। লালমনি এক্সপ্রেস বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।’
লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার আবু হেনা মোস্তফা কামালের সরকারী নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি, উল্টো সাংবাদিকের ফোন দেখে মোবাইল বন্ধ করে দেন।
সকাল নিউজ/এসএফ

