কক্সবাজারের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীজুড়ে এখন চলছে বোরো ধান রোপণের কর্মযজ্ঞ। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে শুরু করে নদীর পাড়, বিল ও সমতল জমিন সবখানেই একযোগে ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক অন্যরকম উৎসবমুখর পরিবেশ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কৃষকরা ধানের চারা তুলছেন, কোথাও সেই চারা জমিতে নিয়ে প্রস্তুত করে রাখছেন, আবার কেউ কেউ লাইনে লাইনে চারা রোপণ করছেন। কৃষকদের মুখে আনন্দ আর চোখে স্বপ্ন ভালো ফলনের প্রত্যাশা।
মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, ‘আমাদের এক একরের বেশি জমিতে ধান রোপণ হয়েছে। আশা করছি ভালো ধান হবে। আমরা প্রতিবছর ধান রোপণ করি, তবে বর্ষা মৌসুমের তুলনায় শুষ্ক মৌসুমে ধান রোপণ করলে ফলন বেশি পাওয়া যায়।’
আরেক কৃষক মোহাম্মদ হাশেম বলেন, ‘এখন ধান রোপণ প্রায় শেষের দিকে। এই সময়ে খরচ একটু বেশি হলেও পরবর্তীতে ধান উঠলে সব পুষিয়ে নেওয়া যায়। এখানে যে টাকা খরচ করি, সেটা আসলে জমা রাখার মতোই।’
উপজেলার কৃষকদের সহায়তায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল গাফ্ফার সকাল নিউজ-কে জানান, ‘চলতি মৌসুমে মহেশখালী উপজেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমি। বর্তমানে পুরো উপজেলাজুড়ে পুরোদমে ধান রোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ধান রোপণের আধুনিক প্রযুক্তি, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, সঠিক বয়সের চারা নির্বাচন, লাইনে রোপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে করে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।’
কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবছর মহেশখালীতে ব্যুরো ধানের ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, অন্যদিকে উপজেলার খাদ্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সকাল নিউজ/এসএফ

