ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রোডম্যাপ ঘোষণাকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ প্রকাশের আগে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা জনগণের সঙ্গে সরকারের অঙ্গীকার ভঙ্গের শামিল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিচারের নিশ্চয়তা ও কাঠামোগত সংস্কার প্রত্যাশা করেছিল। সেই লক্ষ্যে সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করে, যেখানে এনসিপিসহ বিভিন্ন দল নিজেদের মতামত জমা দিয়েছিল।
আরিফুল ইসলাম জানান, কমিশনে ছয়টি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর ঐকমত্য হয়েছিল- যার মধ্যে এনসিপি গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব দেয়। অন্য দলগুলো গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের মতো প্রস্তাব রাখে। কিন্তু সংস্কারের এই আলোচনার মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার একতরফা ঘোষণা ছিল বিস্ময়কর। যদিও বৃহত্তর স্বার্থে দলটি তা মেনে নিয়েছিল। তখন প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের রমজানের আগেই নির্বাচন হতে পারে, তবে তার আগে বিচার ও সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে আশা ছিল সংস্কার রোডম্যাপ আগে প্রকাশিত হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিও এখনো হয়নি। সেক্ষেত্রে নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ জনগণের প্রত্যাশা ভঙ্গ করেছে।’
এনসিপি নেতা আরও বলেন, ‘দলটি কোনোভাবেই নির্বাচনের বিরোধী নয়; বরং ফ্যাসিবাদ থেকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। তবে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করবে। সেই দায় সরকারেরই বহন করতে হবে।’
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু হবে এবং তা দেড় মাস চলবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ৩০ নভেম্বর, আর খসড়া তালিকা প্রকাশিত হবে ১ নভেম্বর। যদিও ভোটগ্রহণ বা তফসিল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
রোডম্যাপ ঘোষণাকে বিএনপি স্বাগত জানিয়েছে, তবে জামায়াতে ইসলামী একে বলেছে বিভ্রান্তিকর।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে ২৯ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৭টি উপজেলায় উঠান বৈঠক ও সাংগঠনিক সভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সকাল নিউজ/এসএফ

