উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা। গত এক বছরে সারা দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি স্কুল পর্যায়ে, যেখানে ১৯০ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট ঘটনার ৪৭.৪০ শতাংশ। কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮%) রয়েছে। তা ছাড়া ২৪৯ জন (৬১.৮%) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২%) পুরুষ রয়েছে।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে আঁচল ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, ১৬৫টি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. আনিস আহমেদ (কনসালট্যান্ট ফরেন্সিক সাইকিয়াট্রিস্ট, যুক্তরাজ্য), ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাষ্ট্র), ডা. মারুফ আহমেদ খান (সহকারী পরিচালক, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ), সংগঠনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোহেল মামুন ও প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ।
ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, ১৬৫টি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। শিক্ষা স্তরভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন (৪৭.৪০%), কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮%), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০%) ও মাদরাসায় ৪৪ জন (১০.৭২%) আত্মহত্যা করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৈশোরের আবেগীয় অস্থিরতা ও পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি স্কুল শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে।
নারী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি বেশি:
মোট আত্মহত্যাকারীর মধ্যে ২৪৯ জন (৬১.৮%) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২%) পুরুষ। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান সংকট বড় কারণ।
হতাশা ও অভিমান প্রধান কারণ:
কারণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, হতাশা ২৭.৭৯%, অভিমান ২৩.৩২%, একাডেমিক চাপ ৭২ জন, প্রেমঘটিত কারণ ১৩.১৫%, পারিবারিক টানাপোড়েন ৭.৯৪%, মানসিক অস্থিতিশীলতা ৬.২০%, যৌন নির্যাতন ৩.৪৭% এবং সাইবার বুলিং ১ জন নারী শিক্ষার্থী। স্কুল পর্যায়ে অভিমান (৩২.৬১%) এবং একাডেমিক চাপ (২৩.৬৯%) সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬.৫০%, যা মোট ঘটনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এছাড়া ১২ বছর বয়সী ৪৪ শিশুর আত্মহত্যা দেশকে নাড়া দিয়েছে।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন (২৯.২৪%). চট্টগ্রামে ৬৩ জন, বরিশালে ৫৭ জন ও রাজশাহীতে ৫০ জন।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্র:
৭৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪ জন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ জন, মেডিকেল কলেজ ৬ জন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজে ১০ জন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশা ও প্রেমঘটিত কারণ বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশার হার আরো বেশি।
সকাল নিউজ/এসএফ

