দীর্ঘ সাত মাস পর ভোলার পশ্চিম ইলিশায় এক গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সোহান সরকার।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি আবদুল মালেক ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মুনাফ মিয়ার ছেলে। নিহত গৃহবধূ জহুরা খাতুন (২৭) তার প্রথম স্ত্রী। তাদের সংসারে পাঁচ সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে ৪ ছেলে ও ১ মেয়ে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহান সরকার জানান, গেল বছরের ১৭ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৩৮) পারিবারিক কলহের জেরে তার প্রথম স্ত্রী জহুরা খাতুনকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
পুলিশ আরও জানায়, আবদুল মালেক পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। কৃষিকাজ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট ও দাম্পত্য বিরোধের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আবদুল মালেক পরিবারের অগোচরে দ্বিতীয় বিয়ে করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন। এতে তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হন।
ঘটনার দিন রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রথম স্ত্রী জহুরার সঙ্গে তার কাটাকাটি হয়। পরে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় তার স্ত্রীকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নিহতের মরদেহ বাড়ির সামনে পুকুরের পানিতে ফেলে দেন মালেক।
এ ঘটনায় প্রথমে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে বিষয়টি সামনে এলেও জেলা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করে। পরে অভিযুক্ত আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে দুপুরে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সকাল নিউজ/এসএফ

