আসন বণ্টন নিয়ে তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই জামায়াতে ইসলামীসহ আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা দলগুলোর শীর্ষ নেতারা জরুরি বৈঠক বসেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি নেই বলে বৈঠকে থাকা একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তাতে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা রয়েছেন।
প্রত্যাশিত আসনে ছাড় না পেলে শেষ পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আভাস দিয়ে রেখেছিল ইসলামী আন্দোলন। অপরদিকে, আজ দুপুর দেড়টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয় নাই, বহুমাত্রিক আলোচনা এখনো চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের এক বাক্স নীতিকে ভিত্তি করে যে রাজনৈতিক সমঝোতার পথচলা শুরু হয়েছিল, তা জাতির মনে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সেই পথচলায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। ‘
নেতারা বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চূড়ান্ত কিছু বলার মতো অবস্থা তৈরি হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অপরাপর দলসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবেই জাতিকে অবহিত করবে।
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি), জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) সমঝোতার আলোচনায় থাকা ১১ দলে আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে অবিশ্বাস ক্রমেই বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগেই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না- তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
গতকাল বুধবার এই অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয়, যখন হঠাৎ করেই সমঝোতায় থাকা দলগুলো পূর্বনির্ধারিত একটি সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে। ওই সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলগুলোর চূড়ান্ত আসন ভাগাভাগির ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল।
সকাল নিউজ/এসএফ

