বিদেশে উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। তার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ‘আনপ্রেডিকটেবল’।
কখন কোন রোগের জটিলতা বেড়ে যায়, কিংবা কখন শারীরিক অবস্থার উন্নতি অথবা অবনতি হয়- সেটি কেউ বলতে পারছেন না। এভারকেয়ারের প্রফেসর সাহাবউদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যে আন্তরিকতার সঙ্গে বিরতিহীনভাবে তাকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন- সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংককের মতো দেশের কোনো হাসপাতালে টানা ২৪ ঘণ্টার এমন আন্তরিক সেবা পাওয়াটা দুর্লভ। মেডিকেল বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ তথ্য জানান।
জানা গেছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল সোমবার খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতি বা অবনতি কোনোটিই হয়নি। তবে তার শারীরিক জটিলতা কখন বেড়ে যায়, কিংবা কখন কমে যায়- কিছুই বলা যাচ্ছে না। এটি অনেকটাই ‘আনপ্রেডিকটেবল’ বলে মনে করছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্ট প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তার ফুসফুসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজনে এই সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান হাসপাতালে সশরীরে উপস্থিত থেকে সমগ্র চিকিৎসার সমন্বয় করছেন।
মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান, দেশি-বিদেশি মাল্টি ডিসিপ্লিনারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড প্রতিদিন বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষায় তার স্বাস্থ্যে বেশ কিছু জটিলতা ধরা পড়ে।
বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শুরুতে তাকে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও বাইপ্যাপ মেশিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় তাকে আরও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাঁর সার্বিক শারীরিক অগ্রগতির বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত ২৭ নভেম্বর তার একিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস ধরা পরে, যেগুলোর নিবিড় চিকিৎসা এখনো চলছে। শরীরে গুরুতর ইনফেকশনের (ব্যাকটেরিয়া অ্যান্ড ফাংগাল ইনফেকশন) কারণে তাকে উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়। এখনো নিয়মিত ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে তাকে। বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য মেডিকেল বোর্ড ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও সবাইকে দোয়া করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সকাল নিউজ/এসএফ

